মমতার সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে নয়া ইঙ্গিত, নতুন বছরে বইতে পারে খুশির হাওয়া -WB Employees DA update

Rajjak Ali

Written by Rajjak Ali

Published on:

 রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

কলকাতা : মামলা ঝুলছে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় । কবে সুরাহা হবে তা নিয়ে সংশয়ের অন্ত নেই । কবে ঘুম ভাঙ্গবে রাজ্য সরকারের । কবে বকেয়া DA মিলবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকারি কর্মী মহল । এরই মধ্যে ইঙ্গিত পূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর ফেস বুক পোস্ট ঘিরে গোটা রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা । কিন্তু কি সেই মন্তব্য যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় গোটা সোশ্যাল মিডিয়া । WB Govt Employees DA Update 

মমতার সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে নয়া ইঙ্গিত, নতুন বছরে বইতে পারে খুশির হাওয়া -WB Employees DA update

জানা গিয়েছে মাত্র দু দিন আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তাঁর ফেস বুক পোস্টে লিখেছেন , এবার হয়তো রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA দেবে রাজ্য সরকার । আর শুভেন্দুর এই ইঙ্গিত পূর্ণ মিন্তব্যের পরেই তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা । কিন্তু কেন এমন মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ? এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত , আগামী ১৬ ই জানুয়ারি সুপ্রিম করতে DA  মামলার শুনানি রয়েছে । ওই মামলার রায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে যাবে বলে অনুমান করেই এমন মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা । তবে শেষ পর্যন্ত মামলার রায়ে কি ফলাফল  হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত । 

তবে ইতিওধ্যেই এক ধাপ এগিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য ১২ শতাংশ DA  ঘোষণা করেছেন ।  এর জন্য ত্রিপুরা সরকারের খরচ হবে ১৪৪০ কোটি টাকা । এই বাড়তি ডিএ ঘোষণার পরই ত্রিপুরার রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ -এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে । পরিসংসংখ্যান বলছে এই বাড়তি ডি এ -র সুবিধা পাবেন ওই রাজ্যের ১ লক্ষ সরকারি কর্মচারী প্রায় আশি হাজার পেনশন ভোগী । কিন্তু ত্রিপুরা সরকার তাদের কর্মীদের বিষয়ে সদর্থক ভুমিকা নিলেও এ রাজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি সরকারি কর্মীরা যে সরকারের নেক নজরে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । 

কিন্তু সরকার যাই বলুক রাজ্য সরকারি কর্মীরা অবশ্য তাদের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে হাল ছাড়তে নারাজ । এই তো  মাত্র কয়েক দিন আগের কথা , বকেয়া ডিএ -র দাবিতে আদালতের দরজায় কড়া নেড়েও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথে নেমে আন্দোলনের পাশাপাশি  বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা । তা নিয়ে অবশ্য ঘটনার ঘনঘটা কম হয়নি । পুলিশের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের তুমুল ধ্বস্তাধস্তির সাক্ষী হয়েছে মহানগরী । পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক আন্দোলনের আক্ষা দিয়ে নয় নয় করে প্রায় ৪৬ জন রাজ্য সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার পর্যন্ত হতে হয়েছে । পরে অবশ্য আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার হওয়া কর্মীরা ছাড়া পান পুলিশি হেফাজত থেকে । এ নিয়ে রাজ্যের শাসক থেকে বিরোধী রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত । 

কিন্তু শুধুই কি রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া  ডিএ  (Dearness Allowance) , শিক্ষক দুর্নীতি থেকে একশো দিনের কাজ কিংবা এন সি সি ক্যাডেট দের ভাতার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দেওউলিয়াপনা এ রাজ্যে কারও অজানা নয় । এ বিষয়ে রাজ্য সরকার কে তীব্র আক্রমণ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বারংবার রাজ্য সরকারের দেউলিয়াপনা রাজ্যের মানুষের সামনে জলের মতো স্পষ্ট করেছেন । তবে বিরোধী দলনেতাই নন , রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের শূন্যতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় প্রতি মুহূর্তে শোনা গিয়েছে আক্ষেপের সুর । কিন্তু তা বললে তো  চলবে না । সরকারি কর্মীদের ডি এ-র দাবি যে যুক্তি সঙ্গত সে কথা স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাইকোর্ট । কিন্তু রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী।   এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা যে  একেবারে খাদের কিনারায় তা স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব স্বয়ং  । 

আসলে খেলা, মেলা আর উৎসব। তার ওপর অযথা দান খয়রাতী। এই করেই সব টাকা শেষ। বিরোধীদের অভিযোগ অবশ্য এমনটাই। এমনিতে রাজ্যের কোষাগারের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী, তারওপর ভোট রাজনীতির স্বার্থে একের পর এক প্রকল্প। আর তাতেই একেবারে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ার যে ক্রমশ দৈনতার দিকে ধাবমান তা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই হাঁটে হাঁড়ি ভেঙ্গেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এক কদম এগিয়ে দাবি করেন, ডিএ তো দুরস্ত, সরকারি কর্মীদের  ডিসেম্বর মাসের মাইনে সরকার দিতে পারবেনা তা নিয়ে আগাম ভবিষৎবাণী করেন তিনি। 

তবে শুধু বিরোধী দলগুলিই নয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে এক অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে টাকার জন্য চিন্তায় রাতের ঘুম উধাওয়ের কথা শুনিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং । তার পরেও রাজ্যের পুজো কমিটি গুলিকে আর্থিক অনুদান দিতে রাজ্যের কোষাগার থেকে চলে গিয়েছে ২৫৮ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর এই দান খয়রাতীর রাজনীতিকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের বিরোধী দল গুলি। এ নিয়ে মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তার নিজের সিদ্ধান্তেই অবিচল। শেষ পর্যন্ত  পার হয়েছে পুজো। 

কিন্তু এবার কি সত্যিই DA পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা ? ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের  DA  নিয়ে হাইকোর্টে ঝাড়ি খেয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের মে মাসে ডি এ মামলায় রাজ্য সরকার কে তিন মাসের মধ্যে কর্মীদের বকেয়া ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের পরই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে রাজ্য সরকার। তাতেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। রাজ্য সরকারের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে ২২ মের রায়ই বহাল রাখে হাইকোর্ট।

শেষ পর্যন্ত বকেয়া ডি এ না পেয়ে  রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন রাজ্যের একাধিক কর্মচারী সংগঠন। সেই মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেইমতো সরকারের তরফে আদালতে হলফনামা পেশ করা হয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের যুক্তি হাইকোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে গেলে ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।  সেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হতে পারে, তা কল্পনাতীত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে।

আসলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের হকের দাবি বলে কথা । বিশেষ করে  সরকারি কর্মীদের ডি এ নিয়ে রাজ্য সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে । তাই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে  আসরে নামেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী খোদ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজেই । এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন , “সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার সংবেদনশীল। প্রশাসনিক মাথা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বস্তরের মানুষের কথা যেভাবে ভাবেন, সেখানে অন্যরকম বাতাবরণ তৈরি করে কোনো লাভ হবে না।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন , ২০১১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (Dearness Allowance) এবং মূল বেতন অর্থাৎ (Basic Pay )একসঙ্গে যোগ করে  ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছেন । সে অর্থে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের  ডিএ বৃদ্ধি হয়নি বলেও দাবি করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য । এ বিষয়ে রজ্য সরকারি কর্মীদের একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী । 

ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্যের শিকে যে এখনই ছিঁড়ছে না তা বলাই বাহুল্য । অগত্যা এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ধৈর্য ধরা ছাড়া যে উপায় নেই তা অর্থমন্ত্রী কথাতেই বেশ স্পষ্ট । কিন্তু এতো কিছুর পরেও রাজ্যের বিরোধী দলনেতার ফেস বুক পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা । তবে শেষ পর্যন্ত কি হয় তার ফলাফল মিলবে সুপ্রিম করতে সুপ্রিম রায়ে ।  

written by – Somnath Pal. 

রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

For More Job News: Click Here


 Join Our Telegram Channel :   Click

TAG – #DA #HIGHCOURT #GOVT #WB #SALARY #MAMTA #SHUBHENDU #DEARNESS ALLOWANCE

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Rajjak Ali
Rajjak Ali

Rajjak Ali is an experienced content writer with over 5 years of expertise in crafting engaging and informative content. With a passion for writing, Rajjak has successfully delivered high-quality articles, blog posts, and website content for various niches. Rajjak's dedication to delivering captivating content has earned him a reputation for excellence in the field.